নারায়ণগঞ্জ সদরের চর সৈয়দপুর এলাকা হতে উদ্ধারকৃত বস্তাবন্দি লাশের রহস্য উন্মোচন

দৈনিক বাংলার পাত্র ঃ

নারায়ণগঞ্জ সদরের চর সৈয়দপুর এলাকা হতে উদ্ধারকৃত বস্তাবন্দি লাশের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন৷ ভিকটিম অনন্য কর্মকার (৩৫)- এর টাকা হাতিয়ে নিতে গিয়ে তাকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই৷ এই ঘটনায় মো. জীবন (৩০) ও নুসরাত জাহান মীম (৪০) নামের দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ সোমবার (০১ এপ্রিল) দুপুরে পিবিআই- এর জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়। জীবন কুমিল্লা জেলার কোতোয়ালী থানার কোতোয়ালি এলাকার মো. ইয়াকুব মিয়ার পুত্র ও নুসরাত জাহান মীম পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া থানার সাত হাসনাপাড়া গ্রামের মৃত সৈয়দ আ. মান্নানের কন্যা।

পিবিআই, নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. আল মামুন শিকদার সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত ৫ মার্চ নারায়নগঞ্জ জেলার সদর মডেল থানাধীন চর সৈয়দপুর এলাকায় ঢাকা হতে মুন্সিগঞ্জগামী রাস্তার বাম পাশে হাত-পা বাধাঁ অবস্থায় বস্তাবন্দী একটি লাশ পাওয়া যায়। সংবাদ পেয়ে পিবিআই, নারায়নগঞ্জ জেলা ভিকটিমের আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে তথা প্রযুক্তির সহায়তায় ভিকটিমের নাম অনন্যা কর্মকার (৩৫) বলে সনাক্ত করে। এই ঘটনায় ৫ মার্চ নিহত অনন্যার ভাই বাদী হয়ে নারায়নগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করে৷ পিবিআই, নারায়নগঞ্জ জেলা মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে।

পিবিআই, নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোঃ আল মামুন শিকদারের সার্বিক সহযোগীতায় পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি চৌকশ টিম মামলা গ্রহনের ২৪ ঘন্টার মধ্যে মামলার ঘটনায় সরাসরি জড়িত মো. জীবন (৩০) ও জীবনের কথিত স্ত্রী নুসরাত জাহান মীম (৪০)-কে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিন থানা এলাকা থেকে গত ৩০ মার্চ গ্রেফতার করা হয়।
ঘটনার দুই দিন আগে দুপুরে অনন্যা বাথরুমে গোসল করতে গেলে আসামী মো. জীবন ভিকটিমের মোবাইল ফোন চেক করে ভিকটিমের কিছু কল রেকর্ড, মেসেজ দেখে বুঝতে পারে যে ভিকটিমের ভাই ভিকটিমকে আমেরিকা থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা) পাঠিয়েছেন। জীবন ওই টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ফন্দি আটতে থাকে। পরবর্তীতে ঘটনার ০৪ এপ্রিল সকাল আনুমানিক সাড়ে দশটার দিকে আড়াইহাজার থেকে পালাগান শেষে সভাপুরের বাসায় ফেরেন জীবন। ঐদিন সন্তাপুরে গ্যাসের চাপ কম থাকায় জীবনের কথিত স্ত্রী আসামী নুসরাত জাহান মীম রান্না করতে পারেন নাই।

এই সুযোগে জীবন বাইরে থেকে নিজেদের এবং ভিকটিম অনন্যার জন্য খাবার কিনে নিয়ে আসে এবং সুযোগ বুঝে ভিকটিমের খাবারের সাথে উচ্চমাত্রার ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে দেয়। ভিকটিম সেই ঔষধ মিশ্রিত খাবার খেয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে ঘুমিয়ে হয়ে পড়ে। এসময় জীবনের কথিত স্ত্রী নুসরাত জাহান মীম রান্নাঘরে খাবার প্লেট পরিস্কার করতে যায়। সেই সুযোগে জীবন ভিকটিমের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য দুপুর আনুমানিক আড়াইটায় অনন্যার রুমে প্রবেশ করলে ভিকটিম অনন্যা আসামী জীবনকে দেখে ফেলায় চিৎকার দিয়ে উঠে। আসাদী জীবন সাথে সাথে ভিকটিমের বিছানায় থাকা বালিশ দিয়ে মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরবর্তীতে ভিকটিম এর মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য তার কথিত স্ত্রী আসামী মীমকে গ্যাস লাইট নিয়ে আসতে বলে।মীম জীবনের কথামতো ভিকটিমের পায়ের আঙুলে আগুন দিলে ভিকটিম নড়াচড়া না করায় তারা ভিকটিমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

মামলাটির প্রাথমিক তদন্তকালে বর্ণিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসামীদের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। গত ৩১ মার্চ মামলার আসামীদ্বয়কে বিজ্ঞ আদালতে উপস্থাপন করা হলে আসামী জীবন বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আলমের আদালতে এবং মীম বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মায়দার আলীর আদালতে ফৌঃকাঃবিঃ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *