ফৌজদারী মামলার তদন্তে তদন্তকারী সংস্থা সমূহের রুটি বিচ্যুতি ও সংশোধনের উপায়

নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ

।। মো. কাউছার আলম,সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট,নারায়ণগঞ্জ।।
ফৌজদারী মামলার তদন্তের বিষয়টি ফৌজদারী কার্যবিধি ১৮৯৮, পেনাল কোড ১৮৬০, পুলিশ রেগুলেশনস সহ দেশের প্রচলিত আইনসমূহ দ্বারা পরিচালিত হয়। মানবাধিকার সংক্রান্ত আইনসমূহ ও তদন্ত কাজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে। এক্ষেত্রে নাগরিকের মৌলিক অধিকার এবং গ্রেফতার ও আটক সংক্রান্ত সাংবিধানিক রক্ষাকবচ, সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুসরনযোগ্য।
তদন্তের উদ্দেশ্যে কি তা নিরুপন করতে নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ গুরুত্ব সহকারে অনুধাবন করতে হবে :-
০ কোন ঘটনা ঘটেছে কিনা? ঘটে থাকলে কি ঘটনা?
০ ঘটনার সত্যিকার ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি কে?
০ অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তি চিহ্নিতকরণ,
০ অপরাধী গ্রেফতার, মালামাল উদ্ধার ও জব্দকরন,
০ তদন্ত শেষে অপরাধীকে বিচারের নিমিত্তে তদন্ত প্রতিবেদন প্রদান।
উপরিউক্ত উদ্দেশ্যসমূহ কোন একটি সঠিকভাবে সম্পন্ন না করলে একটি তদন্ত কার্যক্রম নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। একটি তদন্তকার্য সম্পন্ন করতে তদন্তকারী সংস্থাকে বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করতে হয়।
ফৌজদারী মামলার তদন্তঃ-
Investigation :- investigation includes all the proceedings under this Code for the Collection of evidence conducted by a police-officer or by any person (other than a Magistrate) who is authorized by Magistrate in this behalf. [4( L) Cr.PC]
Inquiry :- inquiry includes every inquiry other than a trial conducted under this Code by a Magistrate or Court. [4(K) Cr.PC] অর্থাৎ ম্যাজিস্ট্রেট/কোর্ট ছাড়া পুলিশ অফিসার/ অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক সাক্ষ্য সংগ্রহের নাম হল Investigation আর ম্যাজিস্ট্রেট/কোর্ট উক্ত কার্যক্রম সম্পাদন করলে তাকে বলা হবে Inquiry তদন্ত কিভাবে করতে হবে তা বলা আছে, Cr.PC 156-173 ধারায়।
০ মামলা দায়েরের বিষয়টা Cr.PC এর ১৫৪, PRB বিধি ২৭৩/২৪৪ ধারায়। আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের অথবা মামলা দায়ের ব্যতীত ফৌজদারী অপরাধের সংবাদ প্রাপ্তির সাথে সাথে তদন্ত শুরু হতে পারে, যেমন Cr.PC এর ৫৪/৫৫/৫৭/১৫১ ধারায়। সেইক্ষেত্রে ১৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে হবে।
০ Cr.PC এর ১৫৭ ধারায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন, ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও আসামীকে গ্রেফতার যদি প্রয়োজন হয়।
০ PRB বিধি ২৭৩ খসড়া মানচিত্র ও সূচীপত্র তৈরী।
০ ১৬০ ধারায় মামলার সাথে জড়িত ক্ষেত্রে ব্যাক্তিকে তলব।
০ সংশোধীত সাক্ষ্য আইন/বিশেষ আইন সমূহের আওতায় অডিও, ভিডিও স্থিরচিত্র গ্রহনযোগ্য সাক্ষ্য বিবেচিত হওয়ায় তা সংগ্রহের চেষ্টা করা।
০ Sec- 161 ধারা অনুযায়ী উক্ত ব্যাক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ, PRB বিধি ২৬৫।
০ আসামী গ্রেফতার করলে ২৪ ঘন্টার মধ্যে তদন্ত সমাপ্ত করন ১৬৭ ধারা।
০ Sec- ৬০/৬১ধারা মতে ২৪ ঘন্টার মধ্যে আসামী উপস্থাপন-২৪ ঘন্টার মধ্যে তদন্ত শেষ করতে না পারলে পুলিশ রিমান্ডে/জুডিসিয়াল কাস্টডি নেওয়ার প্রার্থনা, Cr.PC ১৬৭, PRB ৩২৪ বিধি অনুসরন করতে হবে।
০ আসামী দোষ স্বাীকারোক্তি/বিবৃতি দিতে চাইলে PRB বিধি ২৮৩ অনুযায়ী আগে যাচাই করন, অতঃপর বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট উপস্থাপন।
০ আসামীকে এজাহারকারী/কোন সাক্ষী সনাক্ত করতে পারবে মর্মে উল্লেখ করলে অথবা সনাক্তকরণ মহড়ার প্রয়োজন হলে TIP করার আবেদন করতে হবে PRB বিধি ২৮২ অনুযায়ী বিলম্ব করা যাবে না। ডাকাতি/চুরি/ছিনতাই মামলায় TIP অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন।
০ মুনূষূ কোন ভিকটিম জবানবন্দী দিতে চাইলে মৃত্যুকালীন জবানবন্দী রেকর্ড করার আবেদন করতে হয় PRB বিধি ২৬৬ অনুযায়ী মৃত্যকালীন জবানবন্দী পুলিশ/ডাক্তার/বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট নিতে পারেন। তবে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট নিলে অধিকতর গ্রহনযোগ্য।
০ আলামত জব্দ করার প্রয়োজন হলে Cr.PC ১৬৫ ধারায় তৎসহ/ PRB ২৮০ বিধি অনুসরন করে তল্লাশী দুইজন গন্যমান্য ব্যক্তির স্বাক্ষর, আসামীর স্বাক্ষর নিতে হবে। জব্দ তালিকা ঘটনাস্থলে প্রস্তুত করতে হবে এবং নমুনা আলামত ও র্ধ্বংসযোগ্য আলামত পৃথক চিহ্ন দিতে হবে। জব্দ তালিকা BP Form-৪৪ অনুযায়ী করতে হবে। জব্দকৃত আলামত হতে নমুনা আলামত রাসায়নিক পরীক্ষা করন ও রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন সংগ্রহ করতে হবে।
০ বিশেষ্ণ মতামত সংগ্রহ M/C, Post-mortem,report, Chemical Report, Finger report, Handwriting expert, Ballistic expert যত দ্রুত সম্ভব সংগ্রহ করতে হবে। M/C M (4) ফরম অনুযায়ী তৈরী করতে হবে।
০ তদন্তের শুরু হতে শেষ পর্যন্ত সি.ডি মেনটেইন করা Cr.PC 172/ PRB, 263 বিধি অনুযায়ী তদন্ত শেষ হইলে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে Cr.PC- ১৭৩ তৎসহ PRB- ২৭২ বিধি অনুযায়ী চার্জশীট দাখিল করতে হবে। চার্জশীটে আসামী পলাতক থাকলে তার সম্পত্তির তালিকা দিতে হবে।
০ তদন্ত শেষে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া না গেলে PRB- ২৭৩ ধারা মতে ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল করতে হবে। ফাইনাল রিপোর্ট ৫ ধরনের। FRT, FRF, FRMF, FRML, FR-No Cog.
০ মিথ্যা মামলা হলে PRB- ২৭৯ বিধি অনুযায়ী বাদীর বিরুদ্ধে ২১১ ধারার আবেদন জানাইতে হবে। তদন্ত শেষে তদন্তের ফলাফল অবশ্যই B P-ফরম ৪০/৪৩ অনুযায়ী জানাতে হবে। উক্ত ফরম সংযুক্ত করতে হবে।
Cr.PC- 155(2) ধারা বা ২০২ ধারার অধীনে পুলিশের নিকট কোন অভিযোগ পাঠানো হইলেও একই পদেক্ষেপ লইতে হইবে।
157.(1) If, from information received or otherwise, an officer in charge of a police-station has reason to suspect the commission of an offence which he is empowered under section 156 to investigate, he shall forthwith send a report of the same to a Magistrate empowered to take cognizance of such offence upon a police-report, and shall proceed in person, or shall depute one of his subordinate officers not being below such rank as the Government may, by general or special order, prescribe in this behalf to proceed, to the spot, to investigate the facts and circumstances of the case, and, if necessary, to take measures for the discovery and arrest of the offender:
Cr.PC 167(1) ধারায় বলা আছে- 167.(1) Whenever any person is arrested and detained in custody, and it appears that the investigation cannot be completed within the period of twenty-four hours fixed by section 61, and there are grounds for believing that the accusation or information is well-founded, the officer in charge of the police-station or the police-officer making the investigation if he is not below the rank of sub-inspector shall forthwith transmit to the [nearest judicial Magistrate] a copy of the entries in the diary hereinafter prescribed relating to the case, and shall at the same time forward the accused to such Magistrate.
(5) If the investigation is not concluded within one hundred and twenty days from the date of receipt of the information relating to the commission of the offence or the order of the Magistrate for such investigation-
(a) the Magistrate empowered to take cognizance of such offence or making the order for investigation may, if the offence to which the investigation relates is not punishable with death, imprisonment for life or imprisonment exceeding ten years, release the accused on bail to the satisfaction of such Magistrate; and
(b) the court of Session may, if the offence to which the investigation relates is punishable with death, imprisonment for life or imprisonment exceeding ten years, release the accused on bail to the satisfaction of such Court:
Provided that if an accused is not released on bail under this sub-section, the Magistrate or, as the case may be, the Court of Session shall record the reasons for it:
173.(1) Every investigation under this Chapter shall be completed without unnecessary delay, and, as soon as it is completed, the officer in charge of the police-station shall-
(a) forward to a Magistrate empowered to take cognizance of the offence on a police-report a report, in the form prescribed by the Government, setting forth the names of the parties, the nature of the information and the names of the persons who appear to be acquainted with the circumstances of the case, and stating whether the accused (if arrested) has been forwarded in custody or has been released on his bond, and, if so, whether with or without sureties, and
(b) communicate, in such manner as may be prescribed by the Government, the action taken by him to the person, if any, by whom the information relating to the commission of the offence was first given.
তদন্তের সময় সীমাঃ-
সাধারন আইনের তদন্তের নির্ধারিত কোন সময় সীমা উল্লেখ না থাকলেও Cr.PC এর ১৭৩,১৬৭, PRB- ২৬১ বিধি পর্যালোচনায় বুঝা যায় যে, তদন্তের সাধারন সময় সীমা ২৪ ঘন্টা, অতঃপর ১৫ দিন, অতঃপর ১২০ দিন। বিশেষ আইনে তদন্তের সময় সীমা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে পারে। সেই ক্ষেত্রে তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন অথবা সময় বৃদ্ধির আবেদন করতে হবে।
পি,আর,বি ১৯৪৩ এর ২৬১ বিধিতে উল্লেখ আছেঃ-
(ক) তদন্তকারী অফিসার কোন বিরতি ছাড়াই তদন্তকার্য সমাধা করিবার চেষ্টা চালাইয়া যাইবেন।
(খ) চিঠিপত্রের মারফত নহে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তদন্ত করিতে চাহিলে এবং তাহা দ্রুততর হইলে তদন্তকারী অফিসার ইন্সপেক্টরকে তাহার উদ্দেশ্যে জানাইয়া নিজ এলাকার বাহিরে যাইতে পারেন।
(গ) তদন্তকারী অফিসারগণ ফৌজদারী কার্যবিধির ১৭৩ ধারা অনুযায়ী তদন্তকার্য সমাধা এবং (খ) প্রতিধানের ব্যবস্থাসমূহ অপব্যবহার করিয়াছেন কিনা সার্কেল সহকারী সুপারিন্টেন্ডেন্ট তাহা দেখিবেন। (ক) প্রবিধানের নির্দেশ সমূহ কড়াকড়িভাবে অনুসরণ করা হইলে সবচাইতে জটিল মামলার তদন্ত শেষ করিতেও ১৫ দিনের বেশি লাগিবার কথা নহে।
(ঘ) স্থানীয় তদন্ত শেষ করিবার পর চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রদানে বিলম্ব প্রদানের নিয়ম নিরুৎসাহিত করিতে হইবে। সেই নকল মামলার অভিযুক্তরা পরিচিত সেই সকল মামলা তাড়াতাড়ি সমাপ্ত করিবার জন্য সুপার বিশেষ করিয়া ইন্সপেক্টরকে জোর দিতে হইবে।
(ঙ) যখন কোন ম্যাজিস্ট্রেট থানার ওসির নিকট তদন্তের জন্য একটি অভিযোগ প্রেরণ করেন সম্ভব হইলে এই তদন্ত ম্যাজিস্ট্রেটের দেওয়া সময় সীমার মধ্যে সমাপ্ত করিতে হইবে। যদি তাহা সম্ভব না হয় তাহা হইলে তদন্তকারী অফিসার নির্ধারিত দিনে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে রিপোর্ট করিবেন, কবে নাগাদ তাহা শেষ হইবে জানাইবেন।
পি,আর,বি ১৯৪৩ এর ২৬৮ বিধিতে উল্লেখ আছেঃ-
পুলিশের গ্রাহ্য নহে এমন কোন মামলা Cr.PC -১৫৫ ধারার আওতায় তদন্ত করিবার নির্দেশ দিয়া কোন ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশকে অভিযোগের কপি পাঠাইলে অথবা উক্ত বিধির ২০২ ধারার আওতায় তদন্ত করিবার নির্দেশ এবং তদন্তের ফলাফল জানাইবার তারিখ নির্দিষ্ট করিয়া সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসারের কাজ হইবে উক্ত তারিখের পূর্বে বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা এবং কত তারিখে রিপোর্ট পৌছানো যাইবে তাহা জানাইয়া ম্যাজিস্ট্রেটকে একটি রিপোর্ট পাঠানো। অভিযোগকারীকে নির্ধারিত তারিখ জানাইয়া ম্যাজিস্ট্রেটকে একটি রিপোর্ট পাঠানো। অভিযোগকারীকে নির্ধারিত তারিখ জানাইয়া দিতে হইবে এবং ঘটনাস্থলে তদন্তকারী অফিসারের সামনে উপস্থিত হইতে বলিতে হইবে।
যখন কোন বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট থানার ওসির নিকট তদন্তের জন্য একটি অভিযোগ প্রেরণ করেন সম্ভব হইলে এই তদন্ত ম্যাজিস্ট্রেটের দেওয়া সময়সীমার মধ্যে সমাপ্ত করিতে হইবে। যদি তাহা সম্ভব না হয় তাহা হইলে তদন্তকারী অফিসার নির্ধারিত দিনে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে রিপোর্ট করিবেন, কবে নাগাদ তাহা শেষ হইবে জানাইবেন।
তদন্তকারী সংস্থাসমূহ কর্তৃক তদন্তে নিম্নলিখিত ত্রুটি বিচ্যুতি সমূহ পরিলক্ষিত হয় যা সংশোধন করা আবশ্যক। নিম্নোক্ত ত্রুটি সমূহ সংশোধন করতে পারলেই একটি সুষ্ঠু তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল সম্ভবঃ-
০ আসামী গ্রেফতারের পর আদালতে উপস্থাপন না করে আসামীকে নিয়ে মিডিয়া কনফারেন্স করা এবং ধৃত আসামী বিজ্ঞ আদালতে উপস্থাপনের পূর্বে মিডিয়া আসামীর স্বীকারোক্তি আদায়। এক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
০ আসামী গ্রেফতারের পরও কোন কোন ক্ষেত্রে ২৪ ঘন্টার মধ্যে আদালতে প্রেরণ না করা।
০ তদন্ত প্রতিবেদন যথাসময়ে প্রেরন না করা এবং বিলম্বের কারন ব্যাখ্যা না করা।
০ রিমান্ডের আবেদনের সাথে কেস ডায়েরী প্রেরণ না করা হলে রিমান্ড শুনানিতে বিলম্ব হয় যাতে করে আসামীরা জেলখানায় অনেক সময় অন্য সহ আসামীর সংস্পর্শে এসে তদন্তে কিভাবে বিঘ্ন ঘটানো যায় তা জানতে পারে।
০ রিমান্ড আবেদনে সুষ্ঠভাবে রিমান্ডের কেন প্রয়োজন তা উল্লেখ না করা।
০ রিমান্ড শুনানিতে গুরুত্বপূর্ন মামলায় আই/ও উপস্থিত না থাকা। প্রয়োজন সাপেক্ষে আই/ও এর উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
০ আলামত সংগ্রহ করে ঘটনার পরপর দ্রুত আলামত সংগ্রহের স্থানে জব্দ তালিকা প্রস্তুত না করা।
০ জব্দ করার ক্ষেত্রে জব্দ তালিকার সাক্ষী হিসাবে স্থানীয় কাউকে অগ্রধিকার না দেওয়া।
০ জব্দ তালিকা প্রস্তুতের ক্ষেত্রে ফৌজদারী কার্যবিধির ধারাসমূহ প্রতিপালন না করা এবং জব্দ তালিকায় কাটা ছেড়া, ফ্লুইডের ব্যবহার করা, ওভার রাইটিং করা।
০ তদন্তকালীন সময় হত্যা মামলাসহ দায়রা আদালতে বিচার্য মামলা সমূহে সুরতাহাল রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, ভিসেরা রিপোর্ট এবং অন্যান্য রাসায়নিক পরীক্ষার রিপোর্ট যথাযথ ফরওয়ার্ডিং এর মাধ্যমে কেস ডায়েরিতে সংযুক্ত করে আদালতে প্রেরণ না করা।
০ মামলার তদন্তকালীন কোন আলামত জিম্মা অথবা ধ্বংস অথবা নিলাম করা হলে পুলিশ রিপোর্টে উল্লেখ না করা।
০ ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করার জন্য প্রেরিত আসামীর গ্রেফতারের স্থান, সময়, থানায় হাজিরার সময়, কোর্টে উপস্থাপনের তারিখ ফরওয়ার্ডিং এ উল্লেখ না করা। অনেক সময় PRB- ২৮২ বিধি অনুসরন করা হয় না।
০ এফ.আই.আর, এজাহার, জব্দ তালিকায় মাদকের ওজন উল্লেখ পূর্বক সংশ্লিষ্ট ধারা উল্লেখ না করা।
০ মেডিক্যাল সার্টিফিকেট আদালতের আদেশ মোতাবেক যথাসময়ে সংগ্রহ করে আদালতে প্রেরণ না করা।
০ অভিযোগপত্রে আসামীদের বিরুদ্ধে সুষ্পষ্টভাবে কার বিরুদ্ধে কি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে তা ধারা উল্লেখপূর্বক সুনির্দিষ্টভাবে না উল্লেখ করা।
০ অভিযোগপত্রে পি.সি.পি.আর সঠিকভাবে পূরণ না করা এবং CDMS সঠিক ভাবে যাচাই না করা।
০ ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬১ ধারা অনুযায়ী গৃহীত জবানবন্দী হুবহু একই রকম প্রদান করা।
০ চার্জশীটে কোর্ট অফিসারের জন্য নির্ধারিত অংশ পূরন না করা।
০ খসড়া মানচিত্র, সূচীপত্র সঠিকভাবে প্রস্তুত করা হয় না।
০ পুলিশ রিপোর্টে আসামীর বয়স উল্লেখ না করা।
০ গ্রেফতার দেখানোর আবেদনে সুষ্পষ্ট কারণ উল্লেখ না করা এবং তৎসহ সিডি দাখিল না করা। [ সাইফুজ্জামান বনাম রাষ্ট্র, 51 DLR 324]
০ তদন্ত যথাসময়ে সম্পন্ন না করতে পারলে সুষ্পষ্ট কারণ উল্লেখ পূর্বক সময় বৃদ্ধির আবেদন না করা। তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলায় সাক্ষ্য প্রমানে অনীহা।

`

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *