ভুয়া আশ্বাস দেখিয়ে দরিদ্র ফকিরদের টাকা নিয়ে উদাও দম্পতি

ভূয়া আশ্বাস দেখিয়ে ফকিরদের ২০ লক্ষাধিক টাকা নিয়ে উদাও দম্পতি
সিদ্ধিরগঞ্জ নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:


নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে প্রতারক এক দম্পতির খপ্পরে পড়ে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন শতাধিক দরিদ্র পরিবারের নারীরা। যাদের অধিকাংশই ফকির মিসকিন। বয়স্কভাতা ও সরকারি সাহায্য পাওয়ার আশ্বাস দিয়ে এসব পরিবারের নারীদের কাছ থেকে অন্তত ২০ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়ে ওই দম্পতি পালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযুক্ত দম্পতি হলেন, ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার কসবা থানার আকছিনা পূর্বপাড়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা নাসির দেওয়ান ও তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তার। তারা সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি টেরা মার্কেট এলাকায় নাসির ভিলায় ভাড়া থাকতেন। মাহমুদা আক্তার নিজেকে গাইনি ডাক্তার পরিচয় দিয়ে প্রতারিত নারীদের সঙ্গে সখ্যতা করেন।

ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারিভাবে হতদরিদ্র পরিবারকে তিন বছর পর্যন্ত প্রতি মাসে ৫০ কেজি চাউল, ৫ কেজি ডাল, ৫ কেজি তেল ও ৫ কেজি চিনি দেওয়ার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেয় মাহমুদা আক্তার ও তার স্বামী নাসির দেওয়ান। এলাকার দরিদ্র পরিবারকে টার্গেট করে মিশনে নামেন এ দম্পতি। বিশ্বাস অর্জন করার জন্য মিজমিজি পাগলাবাড়ি এলাকার হেনা আক্তার ও সায়মনা নামে দুই নারীর বাড়িতে খাদ্যসমাগ্রী পৌঁছে দেন তারা। প্রতিমাসে এসব খাদ্যসামগ্রী পেতে হলে রেশন কার্ড করতে হবে বলে অন্য পরিবারগুলোকে প্রলুব্ধ করেন। প্রতারিতরা সরল বিশ্বাসে জীবন বৃত্তান্ত, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ছবি ও ৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে মাহমুদা আক্তারের হাতে তুলে দেন। খুব সতর্কতার সাথে এক মাসে এলাকার শতাধিক পরিবারের কাছ থেকে কমপক্ষে ২০ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়ে গা ঢাকা দেয় দম্পতিটি। তাদের প্রতারণার শিকার হয়েছেন একাধিক বিধবারাও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি সাহায্য পাওয়ার আশায় পাগলাবাড়ি এলাকার আনাতুন্নেছা ১০ হাজার, জাহানারা ৩০ হাজার, ফরিদা ৫ হাজার, হাজেরা খাতুন ১০ হাজার, নাসিমা ৬ হাজার, কুলসুম ৫ হাজার, আমেনা খাতুন ১০ হাজার, মাসুদা ১০ হাজার, জান্নাতুল ৭ হাজার, আন্না খাতুন ৫ হাজার, রূপালী বেগম ৫ হাজার, নাসিমা খাতুন ১৫ হাজার, কল্পনা ৫ হাজার, জহুরা ১৫ হাজার ও ফেরদৌসি বেগম ২৫ হাজার টাকা তুলে দেন প্রতারক মাহমুদা আক্তারের হাতে।

প্রতারিত এসব নারীরা কান্না জড়িত কণ্ঠে জানান, ঢাকার সদরঘাট এলাকার ন্যাশনাল হাসপাতালের গাইনি ডাক্তার হিসেবে এলাকায় পরিচয় দিতেন মাহমুদা আক্তার। চলতেন রাজরানীর মত। এমন নারী প্রতারণা করবে তা ভাবতে পারি নাই। সে বলেছিল সময় চলে গেলে আর কার্ড হবেনা। কার্ড করতে হলে টাকা লাগবে, তবে টাকার কথা কাউকে বলতে নিষেধ করেন। বললে কার্ড করে দেওয়া যাবেনা। তাই কার্ড না পাওয়ার ভয়ে কাউকে কিছু বলি নাই। এভাবে সে যার কাছ থেকে যা পারছে টাকা পয়সা হাতিয়ে পালিয়েছে। তবে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে বলে চিন্তা করবেন না কার্ড হবে।

জানতে চাইলে খাদ্যসামগ্রী পাওয়া সায়মনা বলেন, রেশন কার্ড করলে সরকারি সাহায্য পাওয়া যাবে বলে আমাকে জানায় মাহমুদা আক্তার। কার্ডের মেয়াদ ৩ বছর। এ কার্ড করতে হলে অনেক টাকা লাগে। তার পরিচিত লোক আছে। তার স্বামী সরকারি কর্মকর্তা তাই কমে টাকায় কার্ড করে দিতে পারবে। কত লাগবে জিজ্ঞাসা করলে আমার কাছে ২০ হাজার টাকা চায়। আমি ১০ হাজার টাকায় তাকে রাজি করাই। টাকা নেওয়ার কিছু দিন পর সে নিজে ৫০ কেজি চাউল, ৫ কেজি ডাল, ৫ কেজি তেল ও ৫ কেজি চিনি আমার বাসায় পৌঁছে দেয়। কার্ড পরে দেওয়ার কথা বলে।

প্রতিবেশী হেনা আক্তার বলেন, সায়মনা সরকারি সাহায্য পেয়েছে তা দেখে আমি মাহমুদাকে কার্ড করে দিতে বলি। তখন সে আমার কাছে ৩০ হাজার টাক চায়। আমি ২০ হাজার টাকায় রাজি করাই। সায়মনার মত একইভাবে সে আমার বাসায় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেয়। এতে তার প্রতি সবার বিশ্বাস জন্মায়।অভিযুক্ত মাহমুদা আক্তারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অপরিচিত লোকের সঙ্গে কথা বলেন না বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এর পর একাধিকবার ফোন করলেও সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, এ বিষয়ে থানায় কেই অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *